খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৭ এএম

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে এক অভাবনীয় বিজয় অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, প্রখ্যাত আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রোকন রেজা শেখ। বেসরকারিভাবে এই জয়ের সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই হাওরবেষ্টিত এই জনপদে বইছে আনন্দের জোয়ার। তবে বিজয়ের পর ফজলুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আবেগঘন ও দেশপ্রেমমূলক বার্তাগুলো এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনি ফলাফলে দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের ভোটাররা স্বাধীনতার চেতনা এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছেন। দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের পর এই জয়কে ফজলুর রহমান ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর প্রথম প্রহরের ফজরের নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন তিনি। তার মতে, এই রায় মূলত রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনতার এক সুস্পষ্ট ও অটল অবস্থান।
নিচে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আসন | কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) |
| বিজয়ী প্রার্থী | বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (বিএনপি) |
| নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী | রোকন রেজা শেখ (জামায়াতে ইসলামী) |
| বিজয়ের ব্যবধান | বিশাল (বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী) |
| মূল চেতনা | স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব |
ফজলুর রহমান তার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু। স্বাধীন বাংলার অস্তিত্ব।” এই বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই তার কাছে সর্বাগ্রে। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে এক দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক অটল প্রদীপ হয়ে জ্বলবেন এবং সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও ত্যাগের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
বিশাল এই বিজয়ের হাসির মাঝেও এক বুক বিষাদ ও আক্ষেপ ঝরে পড়েছে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের কণ্ঠে। ফেসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, তার এই আনন্দের মুহূর্তটি ম্লান হয়ে গেছে তার একনিষ্ঠ এক কর্মীর অন্যায্য সাজা প্রদানের কারণে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনৈক ‘কালো শক্তিকে’ সন্তুষ্ট করতে তার এক কর্মীকে বিনা অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই কর্মীর দুটি ছোট সন্তান এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ফজলুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, এই অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং তার কর্মীদের পাশে থাকবেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের এই জয় কেবল একটি সংসদীয় আসনের পরিবর্তন নয়, বরং এটি হাওর অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার এক নতুন অঙ্গীকার। দেশ-বিদেশের অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তার নতুন পথচলায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্তব্য