জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম

লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে কলম্বিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস প্রথম দফায় ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর জানায়। এর কিছুক্ষণ পরই কালি শহর থেকে আরও ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশ করে।
সোমবার ৭.৪ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘দশকে একবার ঘটা’ প্রবল বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করছেন। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাহাড়ি ও দুর্গম চোকো প্রদেশে। ভৌগোলিক ব্যাপ্তির কারণে এই ভূকম্পন রাজধানী বোগোতাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল অঞ্চলগুলোতে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় ২,৭০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিল্লা দ্রুত দেশজুড়ে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণা করেছেন। মাত্র গত শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এমন বড় সংকটের মুখোমুখি হলেন। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে সিভিল ডিফেন্স, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। মানবিক এই বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম কলম্বিয়ার ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূকম্পনটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে, যা ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মন্তব্য