খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

অস্ত্রোপচারের মতো উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সংগীতের সঙ্গ ছাড়লেন না ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোনু নিগম। চিকিৎসা চলার সময়ই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফির জনপ্রিয় গান ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গেয়ে উপস্থিত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের চমকে দেন তিনি। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত সেই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শিল্পীর দ্রুত সুস্থতার জন্যও শুভকামনা জানাচ্ছেন অনেকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যেই সোনু নিগম স্বতঃস্ফূর্তভাবে রফির বিখ্যাত গানটি গাইছেন। পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের স্বাভাবিকতা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। চিকিৎসার চাপ কিংবা শারীরিক অস্বস্তির মধ্যেও তিনি গানকে নিজের মানসিক শক্তির একটি মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলেই ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে।
সোনু নিগম ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে নিজের অনুভূতি জানাতে ছোট্ট একটি বার্তাও দিয়েছেন—‘যন্ত্রণার মধ্যেও গান।’ সংক্ষিপ্ত এই কথার মধ্যেই ধরা পড়েছে সেই সময়ের আবেগ। কঠিন একটি চিকিৎসা পরিস্থিতিকে সংগীতের মাধ্যমে কিছুটা সহজ করে নেওয়ার চেষ্টা যেন স্পষ্ট হয়েছে তাঁর আচরণে।
সাধারণত অস্ত্রোপচার বা কোনো জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার আগে ও সময়ে রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ, ভয় কিংবা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। সেই জায়গায় সোনু নিগমের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের পরিচিত জগৎ—সংগীতকেই বেছে নিয়েছেন। তাঁর গান শুনে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যেও মুহূর্তটির পরিবেশ কিছুটা আনন্দময় হয়ে ওঠে।
সোনু নিগমের সঙ্গে মোহাম্মদ রফির সংগীতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রফি ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠশিল্পী, আর তাঁর গান পরবর্তী প্রজন্মের বহু শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে। সোনু নিগমও বিভিন্ন সময়ে রফির গান পরিবেশন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ফলে চিকিৎসার এমন একটি মুহূর্তে রফির গান বেছে নেওয়ার ঘটনাটি তাঁর সংগীত-অনুরাগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গানটি ১৯৪৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দুলারি’ চলচ্চিত্রের গান। রফির কণ্ঠে গানটি ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের স্মরণীয় পরিবেশনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। গানটির সুরে রাতের আবহ, অপেক্ষা ও আবেগের মিশেল রয়েছে। বহু বছর পরও গানটি শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় থাকার অন্যতম কারণ এর সুরের মাধুর্য এবং রফির অনবদ্য কণ্ঠ পরিবেশনা।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সোনু নিগমের স্নায়ুতে চাপজনিত একটি সমস্যার চিকিৎসার কথা উঠে এসেছে। এ ধরনের সমস্যায় ব্যথা, ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে তাঁর নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ধরন বা অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অনুমান করা ঠিক হবে না। প্রকাশিত ভিডিও থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—চিকিৎসার সময়ও তিনি নিজের মানসিক স্থিরতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়াতেও উঠে এসেছে শিল্পীর প্রতি গভীর ভালোবাসা। অনেকেই তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং সংগীতের প্রতি অটুট টানের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, কঠিন সময়ে প্রিয় কোনো সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন মানুষকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে পারে। তবে চিকিৎসার সময় গান গাওয়া বা কথা বলা সব রোগীর জন্য উপযুক্ত—এমন কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত এই ঘটনা থেকে নেওয়া যায় না। রোগীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ধরন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোনু নিগমের দীর্ঘ সংগীতজীবনে মোহাম্মদ রফির প্রভাবের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রফির গান তিনি শুধু পরিবেশনই করেননি, বিভিন্ন সময় তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন। তাই কঠিন চিকিৎসার মুহূর্তে রফির গান গাওয়াকে অনেকেই সোনুর সংগীতজীবনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির একটি সুন্দর সংযোগ হিসেবে দেখছেন।
হাসপাতালের পরিবেশে গাওয়া সেই কয়েক মুহূর্তের গান শেষ পর্যন্ত শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও হয়ে থাকেনি। এটি দেখিয়েছে, সংগীত কখনও কখনও একজন শিল্পীর কাছে শ্রোতাদের বিনোদনের মাধ্যমের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারে। কঠিন সময়ে সেটিই হতে পারে পরিচিত আশ্রয়, মনোযোগ ধরে রাখার উপায় কিংবা নিজের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার একটি মাধ্যম।
সোনু নিগমের এই মুহূর্তের পর ভক্তদের প্রত্যাশা এখন একটাই—তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন এবং তাঁর কণ্ঠে নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে দাঁড়ান। চিকিৎসার কঠিন সময়েও গানকে সঙ্গী করে রাখা এই শিল্পীর দৃশ্যটি তাঁর সংগীতের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসাকেই যেন আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য