জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:০ পিএম

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নলাম এলাকায় ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কোম্পানির দুটি তামাকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এলাকাজুড়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের চারটি দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে হঠাৎ করেই কোম্পানির দুটি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ তামাক এবং অন্যান্য দাহ্য উপকরণ সংরক্ষিত থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়, যা দূরবর্তী এলাকাও থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
সংবাদ পাওয়ার পর প্রথমে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। আগুনের বিস্তার অব্যাহত থাকায় অতিরিক্ত আরও একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে সাতটি ইউনিট সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে উদ্ধারকাজ সহজ ছিল না। গুদামে সংরক্ষিত তামাক, প্যাকেজিং উপকরণ এবং অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুনের তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে আগুনের উৎসে পৌঁছানো এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালানোর পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে অনেক বাসিন্দা দ্রুত নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহস্থালির জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশের চারটি দল ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ স্টেশনগুলো থেকে ইউনিট পাঠানো হয়। তিনি বলেন, গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য উপকরণের কারণে আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। সে কারণে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণও এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের বড় অগ্নিকাণ্ড উৎপাদন ব্যবস্থা, গুদামজাত পণ্যের নিরাপত্তা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাহ্য পণ্য সংরক্ষণকারী গুদামে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং পরবর্তী তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
মন্তব্য