তাজুল ইসলামের দুর্নীতি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের একজন সিনিয়র প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। সুলতান মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটরের পদকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যা টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত।

সোমবার, সাংবাদিক ও সামাজিক মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত একটি পোস্টে, সুলতান মাহমুদ দুইটি মন্তব্যে সরাসরি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং সহকর্মী গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক কে “রাজসাক্ষী” বা ‘অ্যাপ্রুভার’ করার পেছনে অনিয়ম কাজ করেছে।

অভিযোগের মূল দিকসমূহ

১. রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলায় অনিয়ম

  • পুলিশ কর্মকর্তা অব্যাহতি পেয়েছেন, অথচ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

  • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।

২. আশুলিয়া লাশ পোড়ানো মামলায় অনিয়ম

  • এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে প্রবেশ করলে, চিফ প্রসিকিউটর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

  • পরবর্তীতে মামলায় এসআই আফজাল রাজসাক্ষী হয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন।

আশুলিয়া মামলার রায়

আসামি/সাক্ষীসাজা/স্ট্যাটাস
৬ জন আসামিমৃত্যুদণ্ড
৭ জন আসামিযাবজ্জীবন কারাদণ্ড
২ জন আসামি৭ বছর করে কারাদণ্ড
এসআই শেখ আবজালুল হকরাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার)

৩. চানখাঁরপুলের মামলা

  • ভিডিওতে দেখা গেছে এসআই আশরাফুল গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন।

  • তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।

৪. প্রশ্নবোধযোগ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

  • রংপুরের আবু সাঈদের মামলায় কেন এসি ইমরানকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

  • সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল–মামুনকে কেন রাজসাক্ষী করা হলো।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যক্তিগত অভিযোগের গুরুত্ব আমরা দিই না। এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের ফল। ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মিথ্যা অভিযোগকে আমরা কোনো ধরনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করি না।”

এই অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরে চলমান প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির ব্যাপারে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, চিফ প্রসিকিউটরের পদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনের অভিযোগ জন্ম নিয়েছে।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে এই ঘটনায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রশাসনিক সততার বিষয়ে জনগণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এবার সরাসরি নজর রাখছেন।