খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম

যশোরে আট মামলার আসামি ও চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত শরিফুল ইসলাম জিতুকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্ত্রীর ওপর ধর্ষণচেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে—আটক এক যুবকের এমন চাঞ্চল্যকর দাবির পর ঘটনাটিতে নতুন মোড় নিয়েছে।
গত ২২ জুলাই বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার ফুলতলা মোড়ে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ফুলতলা মোড়ে একদল দুর্বৃত্ত সশস্ত্র হামলায় জিতুকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি দেখার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাজী মাসুম রেজা জানান, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পুলিশ আহত জিতুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে ভোরে নড়াইল পৌঁছালে জিতুর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর রাত ৩টার দিকে মরদেহ পুনরায় ফিরিয়ে এনে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমন মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুমন দাবি করেছেন যে, জিতু তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। আর সেই ঘটনার জেরেই জিতুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পুলিশ এখন সুমনের এই অভিযোগের সত্যাসত্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত জিতু এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় অন্তত আটটি মামলা ঝুলছিল। ধর্ষণচেষ্টার দাবির পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক বা অপরাধকেন্দ্রিক শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং এই বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য