খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে প্রবাসী ভাতিজার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে তার বিশেষ অঙ্গ কাঁচি দিয়ে কেটে পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মার্যাদপাড়া গ্রামে এই অঘটন ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চাচি পলাতক রয়েছেন।
আহত যুবকের নাম জুয়েল (২৪)। তিনি চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মার্যাদপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। পেশায় ওমান প্রবাসী জুয়েল দীর্ঘ আট বছর পর গত এক মাস আগে দেশে ফেরেন। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে জুয়েলের চাচা মনির হোসেন মারা যান। চাচার মৃত্যুর পর জুয়েল প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে চাচির সঙ্গে তার যোগাযোগের একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, জুয়েল চাচিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু কিছুদিন ধরে জুয়েলের পরিবার তার জন্য অন্য জায়গায় বিয়ের কথাবার্তা শুরু করে। বুধবার রাতে জুয়েলের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পৌঁছায় চাচির কানে। এতে ক্ষিপ্ত ও হতাশ হয়ে চাচি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। রাত ২টার দিকে কৌশলে জুয়েলকে নিজের শোবার ঘরে ডেকে এনে ধারালো কাঁচি দিয়ে তার বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন তিনি।
জুয়েলের বাবা কামাল হোসেন জানান, ঘটনার রাতে ঘরের ভেতর থেকে ছেলের হঠাৎ বিকট চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে যান। সেখানে তাকে আশঙ্কাজনক ও রক্তাপ্লুত অবস্থায় উদ্ধার করে অবিলম্বে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ক্ষতের মাত্রা মারাত্মক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জুয়েলকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে এক ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তার দাবি, চাচির সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক বা পরকীয়া সম্পর্ক ছিল না। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি ঘরের বাইরে গেলে চাচি জোর করে তাকে নিজ ঘরে টেনে নিয়ে দরজা আটকে দেন। সেখানে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে তাকে পানের জন্য পানি দেওয়া হয়। পানি পান করার পরই তিনি কিছুটা সচেতনতা হারালে চাচি আকস্মিকভাবে ধারালো কাঁচি দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে দেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের এক সদস্য থানায় এসে মৌখিকভাবে বিস্তারিত জানিয়েছেন। পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। লিখিত লিখিত এজাহার পাওয়ার পরপরই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য