খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫০ পিএম

বগুড়া সদর উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আতিকুর রহমান মণ্ডল সাগর (৩২) নামে এক রাজনৈতিক নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। গত ২৩ জুলাই বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিহতের শ্বশুরবাড়িতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুর রহমান মণ্ডল সাগর বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শাহাদত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাগরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক এবং অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে আগে থেকেই অন্তত ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চাচাতো ভাই ইসমাইল ও জুলহাসের সঙ্গে তাঁর তীব্র কোন্দল চলছিল। নিরাপত্তার তাগিদে এবং পারিবারিক কারণে সাগর স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে নিজ গ্রামের বদলে চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতেই বাস করছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরেই অবস্থান করছিলেন, আর সাগর বাড়ির উঠানে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর তীব্র চিৎকার শুনে ভেতরে থাকা স্ত্রী মারজিয়া খাতুন দৌড়ে বের হয়ে আসেন। এ সময় চাচাতো ভাই জুলহাস ও ইসমাইলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল টিনের বাইরের গেট ভেঙে বলপূর্বক চত্বরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
আক্রান্ত অবস্থায় সাগর জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিছু দূর গিয়েই রাস্তায় ঢলে পড়েন। নিহতের স্ত্রী জানান, স্বামীকে বাঁচানোর জন্য তিনি এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় সাগরকে স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে দুর্বৃত্তরা সেখানেও ধাওয়া করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের গলিতে পড়ে থাকা রক্তাক্ত সাগরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের এমন অকাল প্রয়াণে মা সাজেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁর ছেলেকে অতর্কিত ও অমানবিক উপায়ে কোপানো হয়েছে। জখম হওয়ার পর সাটানো শরীরে পানির জন্য তীব্র ছটফট করলেও ঘাতকেরা তাকে একফোঁটা পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি। তিনি অবিলম্বে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার পর জড়িত সন্দেহে ইসমাইলের মা শাপলা বেগমকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ ঘটনায় সম্পৃক্ত সবাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য