খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৩৮ পিএম

যশোরের কেশবপুরে র্যাব-৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে জাল টাকা ও তার উৎপাদন সরঞ্জামসহ আবু হানিফ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযান সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার মাগুরখালী বাজার এলাকায় পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তারা একটি চৌকস দল গঠন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা ক্যাম্প (সিপিসি-১) থেকে এই দল মাগুরখালী বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আবু হানিফকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে ৮১,৮০০ টাকা সমমূল্যের জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন যন্ত্র ও সরঞ্জাম।
গ্রেপ্তার আবু হানিফ কেশবপুর উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামের সুরত আলী মোল্লার ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, সে জাল টাকা তৈরি এবং কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। র্যাব এখন তদন্ত শুরু করেছে, যাতে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও তাদের কার্যক্রম উদঘাটন করা যায়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাল টাকা কারবার দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সচেতনতার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার আবু হানিফের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা র্যাবের এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশাপ্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে যাতে সাধারণ মানুষ আর কখনও প্রতারিত না হন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জাল টাকা কারবারের ফলে মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, তাই এ ধরনের অভিযান জনসাধারণের জন্য আশ্বাসবাণী হিসেবে কাজ করছে।
| তথ্য | বিবরণ |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | আবু হানিফ, ২৫ বছর |
| গ্রামের নাম | কন্দর্পপুর, কেশবপুর, যশোর |
| পিতার নাম | সুরত আলী মোল্লা |
| গ্রেপ্তারের তারিখ ও সময় | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকেল ৪টা |
| অভিযানকারী সংস্থা | র্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্প (সিপিসি-১) |
| জব্দকৃত জাল নোট | ৮১,৮০০ টাকা সমমূল্যের নোট |
| জব্দকৃত সরঞ্জাম | জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন যন্ত্র |
| গ্রেপ্তারের প্রাথমিক কারণ | জাল টাকা তৈরি ও কারবার |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | সাধারণ মানুষের স্বস্তি, ভবিষ্যৎ অভিযান বৃদ্ধির দাবি |
অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক। কেশবপুরের থানায় জানানো হয়েছে, এই ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে হলে জাল টাকা কারবার এবং প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং অর্থনীতির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে র্যাব এমন অভিযান জোরদার করছে। গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলে জনগণ সচেতন থাকলে জাল টাকা কারবার দমনের ক্ষেত্রে আরও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
মন্তব্য