খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৯:১ পিএম

মাদারীপুরের রাজৈরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক যুবককে ঘরে ডেকে নিয়ে মাথায় আয়রন দিয়ে আঘাত করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করতে না পেরে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন অভিযুক্ত নারী। খবর পেয়ে পুলিশ খাটের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত লিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা এলাকায় প্রবাসীর নিজ বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মারুফ মাতুব্বর (২৬)। তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের হায়দার মাতুব্বরের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত লিজা বেগম রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে ও কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মারুফ ও লিজার মধ্যে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের দুই বছরের মাথায়, অর্থাৎ চার বছর আগে লিজার পরিবার রাজৈরের কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়। বিয়ের কিছুদিন পর কামরুল পুনরায় কাজের উদ্দেশ্যে কুয়েত চলে যান। এর মধ্যে প্রেমিক মারুফও ভাগ্য অন্বেষণে ইউরোপের দেশ ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এবং লিবিয়ায় অবস্থান করেন। প্রায় এক মাস আগে মারুফ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই লিজা ও মারুফের মধ্যে পুরোনো সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে লিজা নিজ উদ্যোগে মারুফকে তার প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে ডেকে আনেন। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানকালে দুজনের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লিজা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ইস্ত্রি (আয়রন মেশিন) দিয়ে মারুফের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মারুফ।
মৃত্যুর পর লিজা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে লাশ গুমের নানা পথ খুঁজতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে ইলেকট্রিক ক্যাবল তার দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে লাশটি ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। তবে ঘরের ভেতর হট্টগোল ও মারামারির শব্দ আগেই আশপাশের প্রতিবেশীদের নজরে আসে। বেশ কিছু সময় পার হলেও ঘরের সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরে তল্লাশি চালায়। খাটের নিচে সন্ধান চালিয়ে মারুফের রক্তাপ্লুত লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত লিজাকে আটক করে।
সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতের বাবা হায়দার মাতুব্বর। বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ফুঁসলিয়ে ও পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য