খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রবাসী আয়ের টানা ইতিবাচক প্রবাহের ওপর ভর করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ আরও এক ধাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি রিজার্ভ বৃদ্ধির এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা সাধারণ বিলিয়নের হিসাবে ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ (BPM6) অনুযায়ী হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত চিত্র বুঝতে আইএমএফ-এর এই হিসাব পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার করা হয়।
রিজার্ভের এই উল্লম্ফনের পেছনে সবচেয়ে বড় ও প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের শুরু থেকেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ১ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনের তুলনায় এবারের প্রবাসী আয় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৪ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা ১১৫ মিলিয়ন ডলার, যা একদিনের হিসাবে বেশ বড় সংগ্রহ।
আর্থনিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাব সামনের দিনগুলোতে বজায় থাকলে দেশের ডলার বাজারের ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং জরুরি আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বাড়াতে দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের শক্তি জোগাবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা ধরে রাখা সম্ভব হয়।
মন্তব্য