খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৪:২০ পিএম

বগুড়া মহানগরীর লতিফপুর কলোনি এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরিফ শেখ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে মহানগরীর লতিফপুর কলোনি এলাকার প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহত আরিফ শেখ লতিফপুর কলোনি এলাকার আজিজ শেখের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেল থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি আরিফকে খুঁজছিল। গভীর রাতে তিনি একা থাকাকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আরিফের বোন রুমি বেগম দাবি করেন, তাঁদের মামা বাদলের কাছে আরিফ প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। সেই অর্থ ফেরত না দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরেই ভাড়াটে লোক দিয়ে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সেলিম, জীবন ও নাহিদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আরিফ শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ছিনতাই ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলোর সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্টদের আশা, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক তথ্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় শিগগিরই স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য