খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আরও একটি বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হওয়ায় শুধু সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে থেকেই নয়, আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও ছিটকে গেছেন। ফলে সফরের মাঝপথেই স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, তৃতীয় ওয়ানডের জন্য মুস্তাফিজের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। চোটের কারণে মুস্তাফিজকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসক ও ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে রাখা হবে, যাতে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন।
মুস্তাফিজ দ্বিতীয় ওয়ানডের আগেই অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করেন। সেই কারণে তিনি ম্যাচটি খেলতে পারেননি। পরবর্তীতে চিকিৎসা মূল্যায়নে দেখা যায়, তাকে মাঠে নামানো হলে চোট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়েই বিসিবি এবং দলের মেডিকেল বিভাগ ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সফরের বাকি অংশ থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই মুস্তাফিজ অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার। নতুন বলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং, মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা এবং ডেথ ওভারে কার্যকর কাটার ও স্লোয়ারে উইকেট নেওয়ার দক্ষতার কারণে তিনি দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। তার অনুপস্থিতি তাই শুধু বোলিং আক্রমণেই নয়, পুরো দলের কৌশলগত পরিকল্পনাতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর। শুরুতে তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন, কারণ একই সময়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। তবে জাতীয় দলের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজে পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে থাকবে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অন্তর্ভুক্তি দলে অতিরিক্ত ভারসাম্য এনে দিতে পারে। তিনি নতুন বলে সুইং করাতে সক্ষম, পাশাপাশি ইনিংসের শেষদিকে কার্যকর ব্যাটিংও করতে পারেন। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তার উপস্থিতি একাদশ নির্বাচনে বাড়তি নমনীয়তা তৈরি করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখার সুযোগ থাকবে।
এই সফরে ইনজুরি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেই চোটের কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে যান অধিনায়ক লিটন দাস। তার পরিবর্তে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে। ফলে সফরের মাঝপথেই একাধিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সমন্বয়ে দল গঠন করতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে, যা ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সময়টা বাংলাদেশের জন্য কঠিন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের ফলে ইতোমধ্যেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে। এখন হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে অন্তত সান্ত্বনার ফল নিয়ে ওয়ানডে অধ্যায় শেষ করতে চাইবে টাইগাররা। সেই ম্যাচটি দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুলাই, এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ হবে যথাক্রমে ১৭ ও ১৯ জুলাই। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বুলাওয়েতে। নতুন সমন্বয়ের দল নিয়ে এই সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। অভিজ্ঞ তাসকিন, অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন এবং দলের অন্য সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে, যাতে ওয়ানডের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইতিবাচক সূচনা করা যায়।
মন্তব্য