খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৬, ৫:৮ পিএম

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহব্বতপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদার, আব্দুল গফুর, নাজিদুল সরদার, জামিউল হোসেন, আবু সাইদ, নাদিম সরদার ও নাজু বিবি। অপর পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মঞ্জুরুল ও বেলজান। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে আরও একজন আহত হয়েছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকলেও শুক্রবার সকালে জমিটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
আব্দুল হাকিম সরদারের অভিযোগ, তিনি ২০২০ সালে মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের মেয়ে নুরুন্নাহানের কাছ থেকে ৯ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকেই তিনি সেটির দখলে ছিলেন। তবে পরবর্তীতে নুরুন্নাহানের ছোট বোন শারমিন একই জমির মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে এবং বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার সকালে শারমিন ও তাঁর সমর্থকেরা ওই জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ গ্রামীণ জনপদে প্রায়ই সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মালিকানা, দখল কিংবা উত্তরাধিকার নিয়ে মতবিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ নিজেরাই জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য নয়, পুরো এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারাধীন জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা, প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা সবচেয়ে কার্যকর পথ। অন্যথায় ছোট একটি বিরোধও বড় ধরনের সংঘর্ষ, হতাহতের ঘটনা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বিভেদের জন্ম দিতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল হোসেন জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য