খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বা নজরদারির আওতায় এসেছেন আরও ৯০১ জন। নতুন আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনে। প্রতিদিনই নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি আশপাশের টিকাবিহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ অনেক মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হওয়ায় রোগটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে মুখের ভেতর ছোট সাদা দাগও দেখা দিতে পারে, যা রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে উঠলেও অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং নির্ধারিত টিকা না পাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। এসব জটিলতা কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতার ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার রোগ পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পান এবং প্রয়োজনে রেফারেল ব্যবস্থাও কার্যকর থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগই নয়, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা, অসুস্থ শিশুকে বিদ্যালয়ে না পাঠানো, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে হামের বিস্তার ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্তব্য