চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতাল থেকে অবৈধভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আবদুল নূর (৬৮) নামের এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম সিরাজাম মুনীরা এ রায় প্রদান করেন। জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল নূর চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে। মামলার অতিরিক্ত পিপি মোরশেদুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রির বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা:
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৫ মার্চ ২০১৩ | কোতোয়ালী থানার কে সি দে রোড সিনেমা প্যালেসের প্রধান ফটকের সামনে থেকে আবদুল নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওষুধ উদ্ধার করা হয়। |
| ১৮ আগস্ট ২০১৩ | তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। |
| ১১ মার্চ ২০১৪ | ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। |
| ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রায় ঘোষণা করেন। |
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকালে আবদুল নূরের কাছে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তিনি এই ওষুধগুলি অবৈধভাবে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে এবং সরকারি সম্পদ হরণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন এসআই কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। চারজন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও প্রমাণাদি বিচারাধীন কাগজপত্রে দাখিল করা হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, “প্রমাণাদি অনুযায়ী আসামি ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে রেখেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।”
চট্টগ্রামের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাগুলো সাধারণত দীর্ঘসূত্রি হলেও, এই মামলায় আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত রায় প্রদান করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি ওষুধের অবৈধ বাজারজাত রোধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মামলার রায় জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
পিপি মোরশেদুর রহমান চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, রায়ের পর থেকে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর। তিনি বলেন, “আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকর করা হবে।”
এই মামলা দেশের সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আদালতের রায় জনসাধারণকে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং আইন মেনে চলার বার্তা প্রদান করেছে।
