খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম

সিডনিতে অনুষ্ঠিত বাংলা হান্ড্রেড লিগ (বিএইচএল) সিজন-১-এর রোমাঞ্চকর ফাইনালে চিটাগং কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছে কুমিল্লা সুপার স্টারস। শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচে দুই দলই দারুণ লড়াই উপহার দেয়। কখনো এক দলের নিয়ন্ত্রণ, আবার মুহূর্তেই অন্য দলের প্রত্যাবর্তন—এভাবেই নাটকীয় মোড় নিতে থাকা ফাইনাল শেষ পর্যন্ত কুমিল্লার হাসিতে শেষ হয়। এক বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা নিজেদের করে নেয় দলটি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে চিটাগং কিংস। শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক কৌরাব আক্তার। শুরুতে সংযত ব্যাটিং করলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ইনিংসজুড়ে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যাট চালিয়ে ৪২ বলে ৭৬ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও কৌরাবের দৃঢ় ব্যাটিংয়ের সুবাদে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে চিটাগং কিংস।
১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে কুমিল্লা সুপার স্টারস। উদ্বোধনী জুটিতে লাবিব মাহবুব ও মেহেদী হাসান ইফতি দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুজনই শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতায় খেলতে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় রানগতিও ধরে রাখেন। লাবিব ২৮ রান করে ফিরে গেলেও ইফতি একপ্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। মাত্র ৩০ বলে ৬৬ রানের ঝলমলে ইনিংসে তিনি প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল আক্রমণ ও ধৈর্যের চমৎকার সমন্বয়, যা রান তাড়ার পুরো সময়জুড়ে কুমিল্লাকে এগিয়ে রাখে।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগে নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায়। সহজ মনে হওয়া সমীকরণ হঠাৎই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় কুমিল্লা। সুযোগ বুঝে চিটাগং কিংস ম্যাচে জোরালোভাবে ফিরে আসে। শেষ পাঁচ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান। মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শক ও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেও তখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ সামলে কুমিল্লার ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন এবং এক বল হাতে রেখেই নিশ্চিত করেন স্মরণীয় জয়।
ফাইনালে ম্যাচজয়ী ৬৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে মেহেদী হাসান ইফতি ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন। পুরো আসরজুড়ে ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে কুমিল্লা সুপার স্টারসের অধিনায়ক তানজিলুর রহমান ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার অর্জন করেন। একই সঙ্গে তিনি ১০টি উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির কৃতিত্বও নিজের করে নেন। অন্যদিকে চিটাগং কিংসের অধিনায়ক কৌরাব আক্তার পুরো টুর্নামেন্টে ২৫০ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে প্রতিযোগিতা শেষ করেন। শিরোপা না জিতলেও তার ধারাবাহিক ও পরিণত ব্যাটিং পুরো আসরজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলা হান্ড্রেড লিগের প্রথম আসর শুধু প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটই উপহার দেয়নি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই আয়োজন ছিল উৎসবমুখর এক মিলনমেলা। বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি টুর্নামেন্টটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকেরা প্রথম আসরের সফল সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের বিশ্বাস, এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি দল, নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং আরও বড় পরিসরের আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা হান্ড্রেড লিগের দ্বিতীয় আসর। তাদের মতে, এমন প্রতিযোগিতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রসারের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার কার্যকর মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। প্রথম আসরের সফলতা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ আয়োজনের সম্ভাবনাকেও জোরালোভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
মন্তব্য