খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

একমাত্র টেস্ট ম্যাচে হারের ক্ষত ভুলে এবার ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগামীকাল দুপুর দেড়টায় মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে আজ রবিবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিরিজটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির একটি বড় মঞ্চ।
ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে (তিন ম্যাচ সিরিজের ১ম ওয়ানডে)।
তারিখ ও সময়: আগামীকাল, দুপুর ১টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময়)।
ভেন্যু: হারারে স্পোর্টস ক্লাব, জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক: মেহেদী হাসান মিরাজ।
দলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন: চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার লিটন দাস।
কৌশলগত গুরুত্ব: এই কন্ডিশনেই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য এই সিরিজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই সিরিজটি দলের সবার জন্যই দারুণ একটি সুযোগ। যেহেতু ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এই কন্ডিশনেই (জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া) অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রত্যেক ব্যাটার ও বোলারের জন্য এখানকার অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়েতে আমরা তিনটি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাচ্ছি এবং আমরা এই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাই। মাঠে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারদের এই ভিন্নধর্মী কন্ডিশনের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে। তবে আমাদের বোলিং ইউনিট নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা এই মুহূর্তে খুব ভালো অবস্থায় আছি। গত কয়েকটি সিরিজে আমাদের বোলাররা দারুণ করেছে এবং দলের মধ্যে একটা ভালো ছন্দও রয়েছে।”
সদ্য সমাপ্ত টেস্ট ম্যাচের হার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মিরাজ বেশ পরিণত জবাব দেন। তিনি অতীত ভুলে নতুন ফরম্যাটে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “টেস্ট ম্যাচের বিষয়টি এখন অতীত। ক্রিকেটে এমনটা কখনো কখনো হতেই পারে। তবে যদি পিছনের দিকে তাকান, দেখবেন শেষ চারটি টেস্টে আমরা সামগ্রিকভাবে বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে নিজেদের কন্ডিশনে আমরা দারুণ সফল ছিলাম। এখানকার কন্ডিশন অবশ্যই কিছুটা আলাদা এবং চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মাঠে প্রতিটি দলই অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন আমরা একদম নতুন একটি ফরম্যাটে মাঠে নামছি। ওয়ানডেতে নিজেদের মাঠে আমরা শেষ কয়েকটি সিরিজে খুব ভালো খেলেছি। তবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে খেলাটা আমাদের জন্য সহজ হবে না, কারণ জিম্বাবুয়েও নিজেদের কন্ডিশনে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ফর্মে আছে। আমরা সব সময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামি। নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই জিম্বাবুয়েকে তাদের মাটিতেই কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব।”
দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলে ফেরার খবরও দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তরুণ পেসার নাহিদ রানার প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, “রানা আমাদের দলের জন্য খুবই রোমাঞ্চকর একজন বোলার। গত কয়েকটি সিরিজে সে যেভাবে গতি ও লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করেছে, তা ছিল সত্যিই অসাধারণ। তার মতো একজন এক্সপ্রেস পেসার থাকা দলের জন্য দারুণ ইতিবাচক বিষয়। এর পাশাপাশি দলে অভিজ্ঞতার গভীরতা বাড়াতে ফিরেছেন লিটন দাস। লিটন আগের সিরিজে চোটের কারণে খেলতে পারেনি, যা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। এখন সে আবার পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছে এবং এটি আমাদের আদেশ বা ব্যাটিং লাইনের জন্য অনেক বড় পাওয়া। কয়েক দিন আগে সে জিম্বাবুয়েতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে এবং অনুশীলনে বেশ ভালো ছন্দে রয়েছে। আশা করছি আগামীকাল সে দলের জয়ে বড় অবদান রাখবে।”
মন্তব্য