বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সময়ের অন্যতম প্রধান পেস বোলার শফিউল ইসলাম অবশেষে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া লিগে নিয়মিত খেলতেন শফিউল। ৩৬ বছর বয়সী এই বোলার জাতীয় দলের পেস আক্রমণের প্রতীক হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি ঘোষণা দেন, “আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল।”
শফিউল তার পোস্টে বিসিবি, সতীর্থ, কোচ এবং অসংখ্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া আজকে পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিল না। অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ আমার ব্যবহারে মনক্ষুণ্ন হন, তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি, সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সাথে ছিলাম, ক্রিকেটের সাথেই থাকব। ধন্যবাদ সবাইকে।”
শফিউল ইসলাম ২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলা হয় ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। তার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| আন্তর্জাতিক অভিষেক | ২০০৭, লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ |
| শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ২০২০, জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ (টি-টোয়েন্টি) |
| বয়স | ৩৬ বছর |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা | ৯১ |
| উইকেট সংখ্যা | ১০৭ |
| জাতীয় দলের জার্সি | লাল-সবুজ |
শফিউল শুধু বাংলাদেশের পেস আক্রমণের শক্ত ভিত্তি নন, বরং দলের জন্য অবদান রেখে গেছেন অনুপ্রেরণারও। তার বোলিংয়ে দ্রুতগতির বাউন্স, সুইং এবং কনসিস্টেন্ট লাইনে বল করার দক্ষতা তাকে বিশেষভাবে আলাদা করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন, শফিউলের অভিজ্ঞতা ও সততার সংমিশ্রণ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য অমূল্য।
শফিউল এখন নতুন জীবনের দিকে এগোচ্ছেন। যদিও মাঠে নেই, তবে ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ নয়। অনেকের আশা, ভবিষ্যতে কোচিং বা ক্রিকেট উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজে তিনি দেশের জন্য অবদান রাখতে পারেন।
শফিউলের এই অবসর ঘোষণায় ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে এক রকমের শূন্যতা সৃষ্টি হলেও, তার অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার নাম থাকবে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে।
