এসিএল চোটে নেদারল্যান্ডস তারকা সিমন্সের বিশ্বকাপ শেষ হলো

হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে নেদারল্যান্ডসের তরুণ মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের চলতি মৌসুম কার্যত শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে তিনি আসন্ন বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারছেন না। টটেনহামের হয়ে খেলার সময় পাওয়া এই গুরুতর চোট তার ক্রীড়া জীবনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে টটেনহামের ১–০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উলভারহ্যাম্পটনের ডিফেন্ডার হুগো বুয়েনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর সিমন্স মাঠে পড়ে যান। প্রথমে তিনি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পুনরায় পড়ে যান এবং এরপর তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। পরবর্তী চিকিৎসা পরীক্ষায় তার ডান হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

টটেনহাম ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিমন্সের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে এবং এরপর ক্লাবের মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে তার পুনর্বাসন শুরু হবে। সাধারণভাবে এসিএল চোট থেকে সেরে উঠতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগে, যা একজন খেলোয়াড়ের পুরো মৌসুম এবং বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।

সিমন্স নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, মৌসুম হঠাৎ থেমে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নিচে জাভি সিমন্সের বর্তমান পরিস্থিতি ও মৌসুমভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
খেলোয়াড়ের বয়স২৩ বছর
ক্লাবটটেনহাম
ইনজুরির ধরনডান হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে যাওয়া
চোটের সময়উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচ
অস্ত্রোপচারের সময়আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে
সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার সময়৬ থেকে ৯ মাস
চলতি মৌসুমে লিগ ম্যাচ২৮ ম্যাচে ১৯টি শুরু একাদশে
মোট মৌসুমে গোল৫ গোল
জাতীয় দলনেদারল্যান্ডস (৩৪ ম্যাচে ৬ গোল)

টটেনহাম বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে রয়েছে। দলটির ৩৪ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ৩৪ এবং অবস্থান ১৮তম স্থানে। একই পয়েন্টে থাকা ১৭তম স্থানের ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের পয়েন্ট ৩৬। লিগে টটেনহামের হাতে এখনো ৪টি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন শুরু হওয়ার কথা, যেখানে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। নেদারল্যান্ডস ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে ‘এফ’ গ্রুপে। তবে সিমন্সের চোটের কারণে এই টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ এখন আর সম্ভব নয়।

এসিএল চোটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।