খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ভারতে বিভিন্ন সময়ে পাচারের শিকার হওয়া ৫০ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। আজ রবিবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা এই নাগরিকদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৪টি শিশু রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
ফেরত আসা মোট নাগরিক: ৫০ জন।
লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন: ৪০ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৪টি শিশু।
হস্তান্তরের স্থান: বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখা (নো-ম্যানস ল্যান্ড)।
উপস্থিত সংস্থাসমূহ: বিজিবি, বিএসএফ, উভয় দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সহায়তাকারী বাংলাদেশি এনজিও: রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার।
পরবর্তী পদক্ষেপ: আইনি সহায়তা, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরি।
সীমান্তের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বাংলাদেশের বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে ফেরত আসাদের চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।
ফেরত আসা এই বাংলাদেশিদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জন্য দুটি মানবাধিকার সংস্থা কাজ করছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ৫০ জন বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করার পর সরকারি নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর তাঁদের পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাঁদের নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করেছে।
পাচারের শিকার হওয়া এই মানুষদের করুণ অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্যে। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানান, সীমান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর অভাব-অনটনের সুযোগ নেয় মানব পাচারকারী চক্র। ভালো কাজের ও মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এঁদের বিভিন্ন সময়ে অবৈধ পথে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। তবে সীমান্ত পার হওয়ার পরেই পাচারকারীরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং এঁদের অনৈতিক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশটির পুলিশের অভিযানে এঁরা আটক হন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁদের কারাগার থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের সেফ হোমে বা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র मंत्रालয়ের দীর্ঘ চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ তাঁরা দেশে ফেরার সুযোগ পান।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা নাগরিকদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ ও ‘রাইটস যশোর’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থাগুলো কেবল তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বই নেবে না, বরং তাঁদের মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা দেবে। রাইটস যশোরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যক্তিরা যাতে আবার পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য তাঁদের পুনর্বাসন ও স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপারেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য