খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১২:২২ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানকালে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নার্সারি পরিচালনার দায়ে আটটি নার্সারির মালিককে আর্থিক জরিমানা করা হয়। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সবজি বাগান এলাকায় ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খানের নেতৃত্বে এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের স্থান: সবজি বাগান এলাকা, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী: ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান।
মূল পদক্ষেপ: সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।
দায়েরকৃত মামলা ও জরিমানা: সরকারি জায়গা দখল করে নার্সারি পরিচালনার দায়ে ৮টি পৃথক মামলায় মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা।
প্রদত্ত আলটিমেটাম: রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সরকারি জায়গা থেকে সব ধরনের গাছ ও টব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সবজি বাগান এলাকার একটি বড় অংশের সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। এর ফলে ওই এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন বিঘ্নিত হচ্ছিল, তেমনই সৃষ্টি হচ্ছিল তীব্র যানজটের। জনদুর্ভোগের এই বিষয়টি নজরে আসার পর ডিএসসিসি আজ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাত জুড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট, বাঁশ-কাঠের তৈরি অবৈধ কাঠামো ও শেড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সেখানে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নার্সারি পরিচালনা করার অপরাধে আটটি পৃথক মামলা করা হয়। এই আট মামলায় আটজন নার্সারি মালিককে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি একটি কড়া নির্দেশনাও দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সরকারি জায়গা থেকে সব ধরনের গাছপালা, টব এবং অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরীর উন্মুক্ত স্থানগুলো সংরক্ষণ করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, ফুটপাত ও রাস্তা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য নয়। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ঢাকার রাস্তাঘাট মুক্ত রাখতে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ফুটপাত যেন পুনরায় দখল না হয়, সেদিকে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মন্তব্য