খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৫ পিএম

বিশ্বকাপ শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন—এমন জল্পনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার বড় বোন কাতিয়া আভেইরোর মন্তব্য ঘিরে যখন অবসর নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নিজেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এখন তার সমস্ত মনোযোগ কেবল বিশ্বকাপ এবং জাতীয় দলের সাফল্যের দিকে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচের আগে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতিয়া আভেইরো দাবি করেছিলেন, তার কাছে থাকা একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী চলমান বিশ্বকাপই হবে রোনালদোর জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তিনি বলেছিলেন, যদি সেটিই সত্যি হয়, তবে এই মুহূর্তটিকে উপভোগ করা উচিত।
তবে মাঠের লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে পর্তুগাল শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই মুহূর্তে অবসর নিয়ে ভাবার সময় নয়।
রোনালদোর ভাষ্য, এখন জয়-পরাজয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয় তার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আগে হয়তো আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল, কিন্তু এখন তিনি অনেক বেশি ধীরস্থির এবং পরিপক্বভাবে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। আপাতত তার লক্ষ্য জাতীয় দলকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা এবং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করা।
এদিকে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি রোনালদোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের দেখা পান। সেই গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে, কিন্তু তার গুরুত্ব ছিল অনেক বড়।
৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই কীর্তির মালিক ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। বয়সের এই পর্যায়েও সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় গোল করে রোনালদো আবারও প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তায় তিনি এখনও বিশ্বের সেরাদের একজন।
এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা এখন ১৪৬। একই সঙ্গে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ৯৭৬-এ। বহুদিন ধরেই ১,০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে ম্যাচের নাটকীয় সমাপ্তি এনে দেন গনসালো রামোস। শেষ মুহূর্তে তার জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল, ফলে দলটি জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
এখন বিশ্বকাপের শেষ আটে পর্তুগালের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে লড়াই করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকবে রোনালদো ও তার সতীর্থদের। আর সেই ম্যাচের আগেই রোনালদোর বার্তা স্পষ্ট—অবসর নয়, এখন তার একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপে পর্তুগালকে আরও দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া।
মন্তব্য