চীনে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ১২

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় একটি প্রদেশে উৎসবের আবহের মধ্যেই এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি আতশবাজির দোকানে আকস্মিক এই বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) জানিয়েছে, বুধবার চন্দ্র নববর্ষের ছুটির দ্বিতীয় দিনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নববর্ষের আনন্দ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড উৎসবের রঙ বিষাদে রূপান্তর করেছে।


দুর্ঘটনার বিবরণ ও কারণ

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মধ্যাঞ্চলের ওই শহরের একটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত আতশবাজির দোকানটিতে আচমকা আগুন লেগে যায়। দোকানের ভেতর বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পটকা ও বাজি মজুদ থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং অগ্নিদগ্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা অসাবধানতাবশত আগুন লাগার কারণে এই জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


চীনে চন্দ্র নববর্ষ ও আতশবাজির সংস্কৃতি

চীনে চন্দ্র নববর্ষ বা ‘লুনার নিউ ইয়ার’ অন্যতম প্রধান উৎসব হিসেবে পালিত হয়। দীর্ঘকালের ঐতিহ্য অনুযায়ী, অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে সমৃদ্ধি আনতে এই উৎসবের সময় প্রচুর পরিমাণে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো হয়। নববর্ষের মঙ্গলবার থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই উৎসব চলতে থাকে। যদিও নিরাপত্তা এবং বায়ুদূষণের কথা চিন্তা করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং এবং সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে আতশবাজি ফাটানোর ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

চীনে আতশবাজি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা একনজরে:

বিষয়বিবরণ
বড় শহরবেইজিং, সাংহাইসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গ্রামীণ এলাকাঐতিহ্য মেনে ছোট শহর ও গ্রামে ব্যাপক হারে পটকা ফাটানো হয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকিঅবৈধ মজুদের কারণে প্রতিবছর উৎসবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আইনি কড়াকড়িলাইসেন্সবিহীন বিক্রয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালায় প্রশাসন।

নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রশাসনের ভূমিকা

গত কয়েক বছরে চীনের বড় শহরগুলোতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার ফলে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় অবৈধ বাজির ব্যবসা এবং মজুদের প্রবণতা বেড়ে গেছে। লাইসেন্সবিহীন ছোট ছোট দোকানগুলোতে নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় না রেখেই দাহ্য পদার্থ ও পটকা মজুদ করা হয়। বিশেষ করে ‘মিসাইল’ আকৃতির শক্তিশালী আতশবাজিগুলো এই বিস্ফোরণের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন পুরো এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং অবৈধ আতশবাজির গুদামগুলোর বিরুদ্ধে তল্লাশি শুরু করেছে। চন্দ্র নববর্ষের দীর্ঘ ছুটির বাকি দিনগুলোতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য জনসাধারণের প্রতি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে দেশটির সরকার আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, যথাযথ তদারকি ও সুরক্ষা নিশ্চিত না করে উৎসবের আয়োজনে সামান্য অবহেলাও ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে। চন্দ্র নববর্ষের মতো বৃহত্ উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে চীনের গ্রামীণ এলাকাগুলো এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।