খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১১০ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৯ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৩৬ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকা, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন এই মৃত্যুগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৯৬৮ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৫১ শিশু। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৩০১ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮৭ জন। স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চলমান এই সংক্রমণ পরিস্থিতির শুরু হয় গত ১৫ মার্চ, যখন প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ধাপে ধাপে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত ১১০ দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে মোট হামের রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭ হাজার ২৬২ জন। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জনের শরীরে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জনসাধারণকে শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য