খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩১ পিএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩৭ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে এই বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতার জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ওই দিন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’-এর ষষ্ঠ সংস্করণ বা বিপিএম-৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৯০০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট রিজার্ভ প্রায় ৯৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ প্রায় ১১২ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আস্থা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে রিজার্ভের অবস্থান একটি দেশের মুদ্রাবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে দুটি ভিন্ন হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। একটি হলো মোট বা গ্রস রিজার্ভ, যেখানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যটি হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য বা নেট রিজার্ভ, যা আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপিএম-৬ অনুযায়ী প্রকাশিত রিজার্ভের তথ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় প্রবাহে উন্নতি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যদিও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এখনও বিদ্যমান, তবুও রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের অবস্থানের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য