জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি দিচ্ছে সবজি বাজার

রাজধানীর কাঁচাবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে মুরগির দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও তুলনামূলক বেশি থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে স্বস্তির খবর হলো, সবজির বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো অস্থিরতা নেই। ডিম, গরুর মাংস এবং বেশির ভাগ মুদিপণ্যের দামও আগের অবস্থানেই রয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মুরগির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে।

সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে সোনালি মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

মালিবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. রাসেল জানান, খুচরা বিক্রেতারা নিজেরা দাম বাড়াননি; মূলত পাইকারি আড়তেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রচণ্ড গরমে বিভিন্ন খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে এবং সেই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। তিনি বলেন, আড়তে দাম কমলে খুচরা বাজারেও মুরগি কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের খুব বেশি স্বস্তি নেই। আকার ও মানভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টাকি মাছের দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ প্রতি কেজি প্রায় ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজারে এখনো স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ সবজিই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে বেগুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচি ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমি সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় এই খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে মুরগি ও মাছের দাম বাড়লেও অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচে সবজি কিনে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা সামাল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

চালের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও কয়েক সপ্তাহ আগে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, সেটিই এখনো বহাল রয়েছে। বর্তমানে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৮ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মিল পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। ফলে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে চাল কিনেই চলতে হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, সবজির দাম এখন কিছুটা সহনীয় থাকায় অন্তত সেই জায়গায় স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। তবে চালের দাম একবার বাড়লে আর কমতে চায় না। এখন আবার মুরগির দামও বাড়তে শুরু করেছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি এবং কার্যকর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। এদিকে ভোজ্যতেল, চিনি, ডালসহ অন্যান্য প্রধান মুদিপণ্যের দাম আপাতত আগের অবস্থানেই রয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর