জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জেদ্দায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়তে পাকিস্তান-সৌদি সমঝোতা

ক্রিকেটের প্রসারে নতুন এক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। জেদ্দায় একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগকে সৌদি আরবে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। সেখানে বলা হয়, এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ নয়। বরং যৌথ পরিকল্পনা, পারস্পরিক আস্থা এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌদি আরবে ক্রিকেটের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা এবং খেলাটির ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করা।

সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভি এবং সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের সভাপতি প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন মোহাম্মদ আল সৌদ। দুই পক্ষই এই চুক্তিকে দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চুক্তি সইয়ের পর মহসিন নাকভি বলেন, সৌদি আরবের ক্রিকেট উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় অংশ নিতে পেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গর্বিত। তাঁর ভাষায়, এই অংশীদারিত্ব শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করবে।

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বিস্তারের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো খেলাটির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন নতুন খেলায় বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়া অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্রিকেটের উন্নয়নে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরবে ক্রিকেটের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে পাকিস্তান ও ভারতের অভিবাসীদের মাধ্যমে দেশটিতে ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে খেলাটির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অনুমোদিত সদস্যপদ লাভ করে। এরপর ২০১৬ সালে দেশটি সহযোগী সদস্যের মর্যাদা অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেদ্দায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হলে শুধু সৌদি আরবের ঘরোয়া ক্রিকেটই নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রিকেটের বিস্তারে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগও সৃষ্টি হবে।

এই সমঝোতা দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাকে আরও গভীর করার পাশাপাশি সৌদি আরবে ক্রিকেটের বিকাশে একটি দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ে তুলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর