খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ বীমা খাত এক বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। দেশটির ক্রেডিট বীমা ব্যবসায় প্রিমিয়াম আয়ের চেয়ে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
ইন্দোনেশিয়ান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (এএইউআই) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে ক্রেডিট বীমার ‘লস রেশিও’ বা লোকসানের অনুপাত বেড়ে ১০২ শতাংশে ঠেকেছে। সহজ ভাষায়, এই সময়ে বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম বাবদ যত টাকা আয় করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা তাদের বীমা দাবি মেটাতে পরিশোধ করতে হয়েছে।
বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইন্দোনেশিয়ার ক্রেডিট বীমা খাতে মোট দাবির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৪.২ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার সমান।
অন্যদিকে, দাবির হার যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, সেই তুলনায় কিন্তু প্রিমিয়াম থেকে আয় বাড়েনি। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এই খাতে প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে মাত্র ৩.২ শতাংশ। এই সামান্য বৃদ্ধির পর মোট প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ৪.১ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া। আয় ও ব্যয়ের এই বড় অমিলই পুরো সাধারণ বীমা খাতকে এক ধরণের অদৃশ্য চাপের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বর্তমানে একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল এখনো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। দেশের সাধারণ পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কিংবা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর আর্থিক ভিত এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হতে পারেনি।
এর পাশাপাশি বাজারে সুদের উচ্চ হারও একটি বড় বড় সংকট তৈরি করছে। ঋণের বিপরীতে সুদের হার বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সময়মতো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়ছে ঋণের বিপরীতে নেওয়া ক্রেডিট বীমাগুলোর ওপর। গ্রাহকেরা খেলাপি হওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলোকে সেই ঋণের দায়ভার নিতে হচ্ছে এবং একের পর এক দাবি পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে সুরক্ষিত থাকার বদলে উল্টো বীমা খাতের নিজেদের মুনাফাই এখন বড় ঝুঁকিতে। আগামী প্রান্তিকগুলোতে এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশটির আর্থিক খাতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য