খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পরপরই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শুরু করা সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করবে।
রোববার (২৮ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জবাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, এমন একটি সময় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর সংযম দেখানো সম্ভব হবে না। তখন সামরিক অভিযান পূর্ণমাত্রায় চালিয়ে যেতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অস্তিত্বই আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এমন কড়া বক্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। গত মে মাসে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের হাতে সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। একইভাবে এপ্রিলে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, একটি পুরো সভ্যতা এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সে সময় তিনি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনার পর। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন হামলা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এম-টি কিকু’-তে ড্রোন হামলার জবাবে রোববার ভোরে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার, ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি দুই মিলিয়নের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছিল। এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যে কোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। আঞ্চলিক সংঘাত কমাতে আগে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও সর্বশেষ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারিও পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য