খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

সুন্দরবনে জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্টগার্ডের তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাহিনী প্রধানসহ আরও দুই দস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়েছেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠা সব ধরনের বনদস্যু ও ডাকাত বাহিনী নির্মূল করে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের এই জোরালো কার্যক্রমের আওতায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে দুলাভাই বাহিনীর অবস্থানের খবর পেয়ে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং নলিয়ান স্টেশনের সদস্যরা যৌথভাবে চারপাশ থেকে ঘেরাও করেন।
টানা দুই দিনব্যাপী চলা এই অভিযানের একপর্যায়ে দস্যুদের দুটি সন্দেহভাজন বোট শনাক্ত করেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। বোট দুটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে দস্যুরা তা অমান্য করে কোস্টগার্ডের ওপর অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করে। কোস্টগার্ডের জোয়ানেরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অন্য বোটটি নদীতে ডুবে যায়। পুরো অভিযানে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ এবং ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ছোড়া হয়।
বন্দুকযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কোস্টগার্ডের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং দলের অন্যতম সদস্য শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করে। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে প্রধান ডাকাত রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে গোলাগুলির সময় বোট থেকে লাফিয়ে কিছু ডাকাত পালিয়ে বনের ভেতরে চলে যায়। পলাতকদের ধরতে কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক ডাকাতকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। তাকেও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করে জানা গেছে, রবিউল ও নিহত শওকত খুলনার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।
অভিযান শেষে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ১টি মোবাইল ফোন ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে উদ্ধারকৃত সব মালামালসহ কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও জারি থাকবে।
মন্তব্য