ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৩.৬ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই কম্পনের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ছিল ৩.৬। যদিও এই মাত্রার কম্পন খুব বেশি শক্তিশালী নয়, তবে রাজধানীর বিভিন্ন উঁচু ভবনে অবস্থানরত মানুষ এটি স্পষ্ট অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পের ভৌগোলিক অবস্থান ও গভীরতা

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এবং স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর এই উৎপত্তিস্থলের কারণে স্থানীয়ভাবে কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি মূলত টাঙ্গাইল জেলা সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ভূত হয়।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থলের অবস্থান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
তারিখ২৬ মে, ২০২৬
সময়সকাল ১১:৪২ (বাংলাদেশ সময়)
তীব্রতা (রিখটার স্কেল)৩.৬
গভীরতা১০ কিলোমিটার
অক্ষাংশ২৪.৩৩ উত্তর
দ্রাঘিমাংশ৯০.৩৯ পূর্ব
উৎপত্তিস্থলমির্জাপুর থেকে ২৯ কিমি উত্তর-পূর্ব (টাঙ্গাইল)

উৎপত্তিস্থল ও দূরত্বের প্রেক্ষাপট

ভূমিকম্পের কেন্দ্রটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এছাড়া ময়মনসিংহ শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখিপুর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। উৎপত্তিস্থলটি ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মৃদু মাত্রার এই কম্পনে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প ঝুঁকি ও সতর্কতা

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলো বিভিন্ন চ্যুতি বা ‘ফল্ট লাইন’-এর সন্নিকটে অবস্থিত। আজকের এই মৃদু কম্পনটি বড় কোনো চ্যুতির অংশ কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণত রিখটার স্কেলে ৪-এর নিচে থাকা ভূমিকম্পগুলোকে ‘মৃদু’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সাধারণত অবকাঠামোগত কোনো ক্ষতি সাধন করে না।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা হিমালয় সংলগ্ন টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই ছোট আকারের কম্পন লক্ষ্য করা যায়। আজকের এই মৃদু কম্পনটি মূলত স্থানীয় টেকটোনিক বিন্যাসের একটি ফলাফল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং যেকোনো বড় ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) এবং স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।