খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৬:৫১ পিএম

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ঘরের চালের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে কাজল আক্তার (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টারের বাড়ির একটি বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কাজল আক্তার ওই এলাকার কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন কাজল আক্তার। শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে ঘরের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা কাজল আক্তারের ওপর চড়াও হয় এবং তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলে। চিৎকার যাতে করতে না পারেন, সে জন্য তার মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শ্বাসরোধে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরে কাজলের মাত্র তিন বছর বয়সী ছোট সন্তানটি উপস্থিত ছিল। অন্য দুই সন্তান স্থানীয় একটি হেফজ মাদরাসায় আবাসিক থেকে পড়াশোনা করায় তারা রাতে বাড়িতে ছিল না। সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা খোলা ও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক দেখে ভেতরে যান। সেখানে কাজল আক্তারের হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের স্বজনরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। কোনো পূর্বশত্রুতা বা পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তারা দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং খুনিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগকেও (সিআইডি) আলামত সংগ্রহের জন্য ডাকা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘরের ভেতরের সামগ্রী ও আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। কারণ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন মেলেনি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের মোটিভ উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য