খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৬:১১ পিএম

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডাকে পাশে রাখলেও সিংহভাগ দায়িত্ব সামলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রই। টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মার্কিন মুলুকে। মাঠের খেলা যখন জমে উঠেছে, তখন দর্শকদের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম আর ভিসা জটিলতা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রায় প্রতিদিনই। এতসব বিতর্কের মধ্যেই নতুন এক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশটি। চলমান আসর শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজনের বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তারা।
হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো জানিয়েছেন, ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এককভাবে নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।
চলতি আসর থেকেই ফুটবল বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে এই পরিধি আরও বাড়িয়ে ৬৪ দল করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। অ্যান্ড্রু গিলিয়ানোর দাবি, যদি ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের কলেবর আরও বাড়ে, তবে তা সফলভাবে সামাল দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এত বড় উৎসব আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না।
সরাসরি চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও গিলিয়ানোর কথায় এক যুগের মধ্যে আবারও বিশ্বমঞ্চের আয়োজক হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, “২০৩৮ সালের বিড (আবেদন) নিয়ে মাতামাতি করার আগে, আমরা চলমান বিশ্বকাপটা কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ করতে চাই।”
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোর ভেন্যু ইতিমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত। ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রথম তিনটি ম্যাচ হবে লাতিন আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের একক আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরব। ফলে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপই হবে পরবর্তী টুর্নামেন্ট, যেটির জন্য নতুন করে বিডিং বা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর সেখানেই নিজেদের জোরালো দাবি জানাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
খেলা মাঠে গড়ালেও এবারের বিশ্বকাপ চলার সময় ফিফাকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে ১২০টির বেশি দেশের খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও দর্শকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করা হয়। এর পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রাতিরিক্ত হোটেল ভাড়া ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির কারণেও তীব্র সমালোচনা চলছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা। মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বকাপেও তার আঁচ লেগেছে। রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ইরান দলকে ম্যাচ খেলে সঙ্গে সঙ্গেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের আগে কিংবা পরে তাদের থাকার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
এতসব নেতিবাচক আলোচনার পরেও ২০৩৮ সালের টুর্নামেন্টটি যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ব্যবসায়িক দিক থেকে আমেরিকার বাজার ফিফার জন্য সবচেয়ে বড় ও লাভজনক। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল বাজার ধরতে এর মধ্যেই ফিফার আইন বিভাগ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে সরিয়ে ফ্লোরিডায় নিয়ে গেছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের পরিচালক গিয়ালিনো দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এখানে আসা ফুটবল–ভক্তদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কতটা উপযুক্ত। দীর্ঘ সময় পর যাঁরা এখানে এসেছেন, তাঁরা দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কতটা অতিথিপরায়ণ।
অন্যান্য দেশের তুলনায় এই বিশ্বকাপ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ অনেক কম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের তৈরি ছিল। যেখানে অন্য দেশগুলোর নতুন স্টেডিয়াম বানাতে হাজার কোটি ডলার খরচ হয়, সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র কয়েক বিলিয়ন।” এই অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সুবিধাকেই ২০৩৮ সালের জন্য নিজেদের মূল হাতিয়ার করতে চায় ওয়াশিংটন।
মন্তব্য