খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৫:২১ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পুত্রবধূকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবু তাহের (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং পরে তাকে পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন মাতবরপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত আবু তাহের ওই এলাকার মৃত আবদু ছত্তরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে একই এলাকার পুরাতন বহদ্দারপাড়ার নুরুল হোসেনের ছেলে শিফাত (২৭), শাহ আলমের ছেলে বাহাদুর এবং তাদের কয়েকজন সহযোগী আবু তাহেরের বাড়ির সামনে এসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং বিভিন্নভাবে ডাকাডাকি করে। এ সময় প্রবাসী ছেলে কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমের ঘরের চালে ঢিল পড়লে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। চিৎকার শুনে আবু তাহের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করেন।
প্রতিবাদের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, শিফাত, বাহাদুর ও তাদের সহযোগীরা আবু তাহেরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করার পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত আবু তাহেরকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পুত্রবধূ ছকিনা বেগম বলেন, তার জা তৈয়বা বেগমের ঘরের চালে ঢিল ছোড়ার পর তিনি চিৎকার করলে শ্বশুর আবু তাহের প্রতিবাদ জানাতে বের হন। তখন হামলাকারীরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেয়।
নিহতের বড় ছেলে নবাব মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্ত শিফাত দীর্ঘদিন ধরে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তিনি একই ধরনের আচরণ অব্যাহত রাখেন। তার অভিযোগ, পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসী কাইছারের স্ত্রীকে মাঝেমধ্যে রাতে বাড়িতে এসে উত্যক্ত করা, ঘরের চালে ঢিল ছোড়া, অশ্লীল মন্তব্য করা এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। মামলার প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত শিফাত ও বাহাদুর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য