খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে রূপকথার এক নতুন গল্প লিখল আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে রুখে দিয়ে, টানা তিন ম্যাচে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের এই দেশ। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে তাদের লড়তে হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। এই মহাভারতসম লড়াইয়ের আগে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তার কণ্ঠে ঝরল প্রবল আত্মবিশ্বাস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয় সংবাদ সম্মেলনে। কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দেশের জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই দল বিশ্বমঞ্চে যা করে দেখিয়েছে, তার জন্য আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। কেপ ভার্দের প্রতিটি মানুষ আজ আমাদের জন্য গর্বিত।” নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পাওয়া নিয়ে বুবিস্তা বলেন, “আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এই পর্যায়ে খেলতে পারাটাই আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার।”
জনসংখ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে কেপ ভার্দে চলতি বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের এই দ্বীপদেশটি বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানকে তারা পাত্তাই দেয়নি। গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তি উরুগুয়ের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ২-২ গোলে ম্যাচ টাই করে তারা। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে আবারও ০-০ গোলে ড্র করে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।
এবার তাদের সামনে মহাতারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের ফল নিয়ে এখনই বাড়তি কোনো চাপ নিচ্ছেন না আইরিশ উপকূলের এই মাস্টারমাইন্ড। তাঁর কাছে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের চেয়েও বড় অর্জন বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করা। বুবিস্তা বলেন, “টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজেদের দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে চেনানো। এই শীর্ষ পর্যায়ে এসে আর্জেন্টিনা আর মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের দেশের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা, ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন।”
বুবিস্তার বিশ্বাস, কেপ ভার্দের এই অবিশ্বাস্য উত্থান বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোর জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। নিজের ফুটবল দর্শন ও মিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। তবে একই সঙ্গে আমরা পুরো আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি। এর বাইরে, আমরা বিশ্বের সব ছোট ছোট দেশগুলোর হয়ে লড়ছি, যাদের কেউ কখনো হিসেবে ধরে না। এটাই আমাদের আসল মিশন। আমরা বিশ্বকে একটা উদাহরণ দিয়ে দেখালাম যে—যদি আপনার মনে গভীর মনোযোগ আর দৃঢ়তা থাকে, তবে আজ হোক বা কাল, আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই।”
গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠা কেপ ভার্দে এবার আর্জেন্টিনার শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেঙে নতুন কোনো রূপকথা লিখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য