খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুন ২০২৬, ১:১৬ পিএম

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন, কারণ তাদের নিজ নিজ দেশের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। ফলে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর সোমবার ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিনিধি দলে ভারত ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। প্রথমে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তারা লিখিত আবেদন জমা দিয়ে সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং নিজেদের সমস্যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
এরপর একই প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গেলে সেখানেও মহাপরিচালকের অনুপস্থিতি তাদের হতাশ করে। পরে তারা চিকিৎসা শিক্ষা শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলমের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তবে আলোচনার পরও কোনো নির্দিষ্ট সমাধান বা স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জনের বেশি বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা ৩৫০ জনেরও বেশি। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, রোটেশন এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, তাদের দেশে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ না থাকায় এই পরিস্থিতি তাদের জন্য চরম সংকট তৈরি করেছে। তারা দ্রুত মানবিক বিবেচনায় বিকল্প ব্যবস্থা বা বিশেষ অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।
একজন বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, হঠাৎ করে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পেশাগত পরিকল্পনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দক্ষতা অর্জনের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) জানান, এখন পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে আবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ২৭ মে হাসপাতালটিতে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালটির কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| হাসপাতাল কার্যক্রম | সাময়িকভাবে বন্ধ |
| বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক | ৩০ জনের বেশি |
| মোট ইন্টার্ন চিকিৎসক | ৩৫০ জনের বেশি |
| সংশ্লিষ্ট দেশ | ভারত, মালদ্বীপসহ অন্যান্য |
| প্রধান সংকট | প্রশিক্ষণ স্থান পরিবর্তনের সুযোগ না থাকা |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | তদন্ত কমিটি গঠন |
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পেশাগত সম্ভাবনা আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্তই এখন এই অনিশ্চয়তা কাটানোর একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য