খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে রাতের আঁধারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতামূলক ঘটনার পাশাপাশি ওই রাজনৈতিক কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে শনিবার সকালে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী এলাকায় বিএনপির এই স্থানীয় কার্যালয়টি অবস্থিত। মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেমায়েত আলী বাবু ঘটনার বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিদিনের মতো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে কার্যালয়ে আসেন। এই সময় তারা কার্যালয়ের ভেতরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন।
অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন দেখার পাশাপাশি নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সেখানে দুটি বিপজ্জনক ও অবিস্ফোরিত ককটেল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কার্যালয় প্রাঙ্গণে ককটেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর দলীয় নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেল দুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেমায়েত আলী বাবু আরও জানান, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে প্রবলভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা এই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে।
রাতের আঁধারে লাগা এই আগুনের কারণে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই নাশকতামূলক ঘটনা এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল রাখার এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য