খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় একটি স্থানীয় সালিস বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আনুমানিক এক মিনিট স্থায়িত্বের ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত অবস্থায় স্থানীয় এক বিএনপিকর্মী এবং বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে ধমক দিচ্ছেন ও শাঁসাচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক মহলের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে বেশ ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ এক পর্যায়ে তিনি নিজের সামনে থাকা টেবিল চাপড়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কর্মীকে উদ্দেশ করে উচ্চস্বরে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।’
উপজেলার একটি স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। আনুমানিক এক মাস আগে আয়োজিত ওই সালিস বৈঠকে বিবদমান উভয় পক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিলেন। সালিস কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হঠাৎ করে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এর ফলে বৈঠকের ভেতরের পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে আরও দেখা যায়, সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং বিচার কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দিচ্ছেন।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এক পর্যায়ে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ে বক্তব্য দেন, যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হতে থাকে। বিচারিক আসনে বসে একজন আইন প্রণেতার এমন আচরণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওই বিএনপিকর্মী তারা মিয়া গণমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনাটি মূলত আজ থেকে প্রায় এক মাস আগের।
ওই দিন গ্রামীণ বিচার সালিস চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে এক পর্যায়ে ব্যাপক কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ওই সময় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এবং সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পুরো বিষয়টির একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক সমাধান সম্পন্ন হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন এবং নিজের অবস্থানের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের। তিনি বলেন, ওই গ্রামীণ সালিস বৈঠকে বিচার চলাকালে উভয় পক্ষের উত্তেজিত লোকজনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত তর্ক-বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা চলছিল।
এমতাবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার স্বার্থেই তিনি উপস্থিত সবাইকে কিছুটা কঠোরভাবে ধমক দিয়েছিলেন। সাময়িক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সম্মতিতে পুরো বিষয়টির একটি অত্যন্ত সুন্দর, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন।
মন্তব্য