খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা, অভিযানের সময় স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি গোয়েন্দা দল রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অভিযানে অংশ নেওয়া অন্য সদস্যরা ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির আহমেদ এবং কনস্টেবল আকাশ আহমেদ।
অভিযান চলাকালে আসামিপক্ষের লোকজন এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গোয়েন্দা দলের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ এবং কনস্টেবল কবির আহমেদকে মারধর করে একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিনগর বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ওপর আরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় কনস্টেবল আকাশ আহমেদ নিকটস্থ একটি ওয়াশরুমে অবস্থান করছিলেন। ফলে তিনি সরাসরি হামলার শিকার হননি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ডিবি দলের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে দ্রুত আড়াইহাজার থানায় পৌঁছে স্থানীয় পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিন সদস্যকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
| নাম | পদবি | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| মামুন মাতুব্বর | উপ-পরিদর্শক (এসআই) | আহত |
| আমান উল্লাহ | সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) | আহত |
| কবির আহমেদ | কনস্টেবল | আহত |
| আকাশ আহমেদ | কনস্টেবল | অক্ষত |
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, আহত সদস্যদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল এবং কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান সম্পর্কে তার কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকেও স্থানীয় থানার সঙ্গে পূর্ব সমন্বয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা সাদা পোশাকে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা জনরোষের মুখে পড়েন। পরে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃজেলা বা বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাকে অবহিত করা, পরিচয়পত্র বহন করা এবং অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে ভুল বোঝাবুঝি, জনরোষ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার পেছনের পরিস্থিতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিযানের প্রক্রিয়া ও সমন্বয় ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
মন্তব্য