যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত রোববার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শার্শা থানায় ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী নারী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের তালিকা
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| হাসিব আল হাসান | ১৯ | নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়ার ঘোপ গ্রাম | গ্রেপ্তার |
| আব্দুর রহমান ইমন | ২২ | ছোট বসন্তপুর গ্রাম | গ্রেপ্তার |
| মেহেদি হাসান টুটুল | ২৩ | ছোট বসন্তপুর গ্রাম | গ্রেপ্তার |
| আব্দুল্লাহ আল মামুন | ২৪ | তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় এলাকা | পলাতক |
| ইমন | ২৩ | তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় এলাকা | পলাতক |
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের বেলায় সংঘটিত হয় এবং অভিযোগকারী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহসহ প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
