মিঠাপুকুরে বাস দুর্ঘটনায় নারী নিহত আহত বিশজন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত বিশজন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পাগলাপীর এলাকা অতিক্রম করে মিঠাপুকুর উপজেলার দমদমা রহমান পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করে বাসটির সামনের চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি দ্রুতগতিতে সড়কের পাশে থাকা একটি সাইনবোর্ডের শক্ত লোহার খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আসন ও জানালার সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। গুরুতর আহতদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত নারী শামসুন্নাহার (বয়স ৩৫) পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট এলাকার প্রথম ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা খসরু মিয়ার স্ত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের সড়কেও প্রভাব ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা না করা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা এবং চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মিঠাপুকুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাকা বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নিচে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানমিঠাপুকুর, রংপুর (ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক)
সময়বুধবার রাত
যানবাহনযাত্রীবাহী বাস
দুর্ঘটনার কারণসামনের চাকা বিস্ফোরণ ও নিয়ন্ত্রণ হারানো
নিহত১ জন (নারী)
আহতঅন্তত ২০ জন
গুরুতর আহত২ জন
চিকিৎসা কেন্দ্ররংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ফিটনেস পরীক্ষার ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, কার্যকর নজরদারি না বাড়ালে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।