রাজধানীর রমনা থানাধীন মৌচাক এলাকায় একটি সালিসি বৈঠক চলাকালে ছুরিকাঘাতে বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নামের জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সাবেক নেতা খুন হয়েছেন। তিনি রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত সোয়া ৯টার দিকে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন মালিবাগ বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মালিবাগ এলাকায় তার বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে। তার বাবার নাম মৃত ইউনুছ তালুকদার।
নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় ও পূর্বের ঘটনা
দলীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলেরও আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালিবাগের সোহাগ পরিবহনের প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে হত্যাকাণ্ডের সময়ে তিনি দলটির সাবেক নেতা হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও ভাগনের বক্তব্য
হাসপাতালে বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা তার ভাগনে মো. মোবারক হোসেন আকাশ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সোমবার সন্ধ্যার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে প্রথমে তাকে মারধর করে। এই খবর পেয়ে তার মামা বিল্লাল হোসেন তালুকদার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে রাত আটটার দিকে ওই মারামারির ঘটনাটি মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে আনারকলি মার্কেটের সামনেই একটি সালিসি বৈঠক বসানো হয়েছিল।
মোবারক হোসেন আকাশ আরো বলেন, সালিস চলাকালে যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু এবং তার সঙ্গে থাকা রমনা থানার সেক্রেটারি লুৎফরের সঙ্গে তার মামা বিল্লাল হোসেনের তীব্র তর্কাতর্কি হয়। এই তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বিল্লাল হোসেনের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাজাহার এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত ৮টার দিকে সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, নিহত ব্যক্তির বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
