নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভাণ্ডারপুর এলাকায় এক অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ‘আলফা কিন্ডারগার্টেন’ নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর (৫০) বিরুদ্ধে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানই নন, তিনি আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে আসীন এবং পাশাপাশি কোলা ইউনিয়নের কাজীর দায়িত্বও পালন করছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে তীব্র বৃষ্টির কারণে স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশ কম ছিল। এই সুনসান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপু উক্ত ছাত্রীকে একা পেয়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তবে মেয়েটি বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষকের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে দৌড়ে বাড়ি ফিরে যায় এবং পরিবারকে ঘটনাটি বিস্তারিত জানায়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সুযোগ বুঝে গা ঢাকা দেন।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে অভিযুক্তের প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর ভাণ্ডারপুর চারমাথা এলাকায় স্থানীয় জনতা দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং গণবিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটির তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন। কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম স্বপন জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারি এবং অনিয়ম করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দ্রুত এই শিক্ষকের কাজীর লাইসেন্স ও স্কুলের যাবতীয় নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান। স্থানীয় এক অভিভাবক আফসোস করে বলেন, যে শিক্ষকের ছায়ায় শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই যদি তারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়, তবে সমাজ কার ওপর ভরসা রাখবে?
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান সনি এবং বদলগাছী থানার ওসি রুহুল আমিন সরজমিনে উপস্থিত হন। তারা ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ শাস্তির আশ্বাস দেন। বদলগাছী থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পলাতক শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে।









