খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রেজওয়ান হাসান জেমসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার মূল অভিযোগ দোকানের কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে হলেও, তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দোকান মালিককে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
Table of Contents
মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার বাসিন্দা মোছা. সুমি খাতুন তাঁর ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জুন দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি ভ্যারাইটিজ স্টোরে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কিনতে যায়। ওই সময় দোকানে কর্মরত কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লা শিশুটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের অংশে নিয়ে যায় এবং দোকানের সম্মুখভাগের শাটার বন্ধ করে দেয়। এরপর অভিযুক্ত কর্মচারী শিশুটিকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে, মুখে চুম্বন করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দোকানের শাটার আকস্মিক বন্ধ দেখে আশপাশের স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের শাটার টেনে খুলে ফেললে অভিযুক্ত কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লা সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও শিশুটির স্বজনরা দোকানের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিবরণ, আসামিদের ভূমিকা এবং বর্তমান আইনি অবস্থা নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| মামলার বিবরণ ও পক্ষসমূহ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত |
| ঘটনার স্থান | খান্দার এলাকা, বগুড়া শহর |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ৭ জুন, ২০২৬ (দুপুর) |
| ভুক্তভোগী | ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যা |
| মামলার বাদী | মোছা. সুমি খাতুন (শিশুর মাতা) |
| ১ম ও প্রধান আসামি | ময়েন উদ্দিন মোল্লা (দোকানের কর্মচারী) — পলাতক |
| ২য় আসামি (গ্রেফতারকৃত) | রেজওয়ান হাসান জেমস (দোকান মালিক ও শ্রমিকদল নেতা) — কারাগারে |
| প্রধান অপরাধের ধরন | জোরপূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণচেষ্টা |
| সহায়তাকারীর অপরাধ | মূল অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা |
| আইনি প্রক্রিয়া | বগুড়া সদর থানায় মামলা রুজু ও তদন্ত চলমান |
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার পরপরই ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রেজওয়ান হাসান জেমস আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা না করে উল্টো তাঁর কর্মচারী ময়েন উদ্দিন মোল্লাকে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন। এই অপরাধের ওপর ভিত্তি করেই তাকে মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা জেমসকে আটক করে প্রথমে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ফাঁড়ি পুলিশ তাকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ময়েন উদ্দিন মোল্লা সম্পূর্ণ পলাতক থাকায় স্থানীয় জনগণের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, সে এখনও গ্রেফতারের বাইরে রয়েছে; অথচ অপরাধীকে সহায়তার অভিযোগে দোকান মালিককে প্রথমে কারাবরণ করতে হলো।
এই বিষয়ে আইনজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলার এজাহারে কারও নাম থাকলেই অথবা কেউ গ্রেফতার হলেই তিনি চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হন না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল কোনো ব্যক্তির প্রকৃত অপরাধ বা দায় নির্ধারিত হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রধান পলাতক আসামি ময়েন উদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত চূড়ান্ত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য