দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। মাঠের পারফরম্যান্সে টানা পাঁচ ম্যাচে হারের বৃত্তে বন্দি থাকার পর এডিনবার্গে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডকে ৩৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে স্বস্তি ফিরিয়েছে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি তাদের সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থতার ধারা কাটিয়ে পুনরায় জয়ের ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।
Table of Contents
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দল অত্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিল। সেই টুর্নামেন্টে খেলা সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে সরাসরি মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা বা টিকিট অর্জন করে বাংলাদেশ নারী দল।
তবে বাছাইপর্বের সেই অপ্রতিহত সাফল্যের পর হঠাৎ করেই বাংলাদেশ দলের খেলায় ধারাবাহিক ব্যর্থতা শুরু হয়। ঘরের মাঠে সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে শ্রীলঙ্কার নারী দলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ বা সিরিজ হারে বাংলাদেশ। এরপর স্কটল্যান্ডের মাটিতে চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে চরম ব্যাটিং ও বোলিং বিপর্যয়ে পড়ে জ্যোতিরা। সেখানে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যথাক্রমে ৮ উইকেট ও ৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত হতে হয় বাংলাদেশকে। এই টানা পাঁচ হারের পর অবশেষে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ে ফিরল তারা।
নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস
এডিনবার্গের ক্রিকেট মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে 6 উইকেট হারিয়ে ১৫২ রানের একটি লড়াকু ও চ্যালেঞ্জিং স্কোর পুঁজি হিসেবে দাঁড় করায় বাংলাদেশ দল।
দলের পক্ষে অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতি ৪৭টি বলের মুখোমুখি হয়ে ৬টি চার ও ১টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান সংগ্রহ করেন মিডল অর্ডার ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। স্কটল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ক্যাথরিন ব্রাইস ও মেইসি ম্যাকেইরা প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের রান তোলার গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: অধিনায়কের ৫৮ ও সোবহানা মোস্তারির ৩৯ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ১৫২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়।
স্কটল্যান্ডের ব্যাটিং বিপর্যয় ও রিতু মণির বিধ্বংসী বোলিং
বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয় ও তোপের মুখে পড়ে স্কটল্যান্ড নারী দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা স্বাগতিকরা ১৫.২ ওভার শেষে ৬ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ৯৩ রান তুলতে সক্ষম হয়। শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে না পেরে ১৯ ওভারে মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্কটল্যান্ড। দলের শেষ ৪টি উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে।
স্কটল্যান্ডের ইনিংসে সারাহ ব্রাইস ৪১ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। এছাড়া আলিসা লিস্টার ও সারাহ ব্রাইসের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসা ২৮ বলে ৩৮ রানই ছিল স্কটল্যান্ডের ইনিংসের সর্বোচ্চ দলীয় পার্টনারশিপ।
রিতু মণি: ২ ওভার, ১২ রান, ৪ উইকেট (ম্যাচ জয়ী বোলিং)
মারুফা আক্তার: ২ উইকেট
সানজিদা আক্তার মেঘলা: ২ উইকেট
রাবেয়া খান ও সোবহানা মোস্তারি: ১টি করে উইকেট
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও পরবর্তী সূচি
আগামী জুন-জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এই মেগা ইভেন্ট বা বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে এডিনবার্গে চলমান এই ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি系列কে নিজেদের কন্ডিশন ও দলগত প্রস্তুতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নারী দল। এই একই ভেন্যুতে পরশু দিন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।
উল্লেখ্য, আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অত্যন্ত কঠিন সমীকরণ নিয়ে এক নম্বর গ্রুপে (গ্রুপ-১) অবস্থান করছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বের লড়াইয়ে মূল পর্বে বাংলাদেশকে শক্তিশালী ভারত, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট লীগের নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। বিশ্বকাপের এই কঠিন ম্যাচের আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়টি নিশ্চিতভাবেই খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
