মিরপুরে অনুষ্ঠিত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ব্যাটার হাবিবুর রহমান ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আলোচনায় আসেন। তার ব্যাটিং ঝড়ের অন্যতম বড় মুহূর্ত ছিল নাহিদ রানার এক ওভারে ২৬ রান নেওয়া এবং মাত্র ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ করা, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডের সমান।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন হাবিবুর রহমান। মোহামেডানের পেসারদের লক্ষ্য করে তিনি একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকান। বিশেষ করে জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদের ওভারে তিনি ২৫ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে ছিল দুইটি ছক্কা এবং দুইটি চার। এই ওভারটি তার ইনিংসের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত পেসার নাহিদ রানা বল হাতে আসলে হাবিবুর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। নাহিদের প্রথম বলেই তিনি এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে চার মারেন। দ্বিতীয় বলে ইনসাইড আউট শটে কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা আসে। তৃতীয় বলের পর ধারাবাহিক আক্রমণে পরের দুই বলে লং অফ ও স্কয়ার লেগ দিয়ে দুইটি ছক্কা মারেন। ওভারের শেষ বলে লং অন দিয়ে আরেকটি চার যোগ হয়। ফলে এক ওভার থেকে আসে মোট ২৬ রান।
এর আগে একটি শট ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা পড়ে, যেখানে স্লিপ অঞ্চলের মাঝে দিয়ে খোঁচা মেরে চার পান হাবিবুর। সেই চারেই তিনি মাত্র ১৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। এই ফিফটির মাধ্যমে তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে পারভেজ হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান নেন।
নিচে ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| খেলোয়াড় | হাবিবুর রহমান |
| ইনিংস | ২৭ বল |
| রান | ৫৯ |
| চার | ৬ |
| ছক্কা | ৫ |
| ফিফটি | ১৫ বল |
| নাহিদ রানার এক ওভার | ২৬ রান |
| তাসকিন আহমেদের এক ওভার | ২৫ রান |
রেকর্ড গড়ার পরও হাবিবুর রহমান খুব বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। ২৭ বল খেলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করে তিনি তাইবুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন।
বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও হাবিবুর রহমানের দখলে রয়েছে। তিনি বিসিএল ওয়ানডেতে উত্তরাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে রেকর্ডবুকে রয়েছে।
