ভারতের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল

সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করলেও নিজেদের মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভারত ১১-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের শিবিরে জয়ের আনন্দ থাকলেও একধরনের অস্বস্তি ও চাপ বিরাজ করছে। আগামী রবিবার, ৩১ মে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটিতে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেই দলে প্রকৃত স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চান নারী ফুটবলাররা।

ভারতের গোয়ায় অবস্থানরত টিম হোটেল থেকে গতকাল রাতে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি আগামী ম্যাচ ও দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সুরভী আকন্দ প্রীতি জানান, মালদ্বীপের বিরুদ্ধে তাঁদের দল কৌশলগতভাবে যেভাবে খেলতে চেয়েছিল, ঠিক সেভাবে খেলতে পারেনি। তাই এই জয়ে খুব বেশি আনন্দিত বা আত্মতুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। দলের সবার দৃষ্টি এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে পারলে তবেই দল প্রকৃত অর্থে খুশি হতে পারবে।

ভারতের বিপক্ষে বাড়তি প্রাণশক্তি ও সুরভীর বক্তব্য

প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার বিষয়ে দলের মানসিক প্রস্তুতি ও বাড়তি অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করেছেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। তাঁর ভাষ্যমতে, ভারতের বিপক্ষে খেলা মানেই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি শক্তি ও উদ্দীপনা কাজ করে। ভারত ফুটবল দল হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গোছানো।

মাঠের লড়াইয়ে তারা তুলনামূলক ভালো দল বলেই বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে ভালো খেলার এবং নিজেদের প্রমাণ করার বাড়তি প্রাণশক্তি ও জেদ তৈরি হয়। এর পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে খেলার সময় স্বাভাবিকভাবেই একটি বাড়তি রোমাঞ্চ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়, যা দলের সবাইকে মাঠের ভেতর সেরা পারফরম্যান্স দিতে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে তোলে।

মালদ্বীপ ম্যাচের ঘটনাবহুল বিবরণ ও চড়াই-উতরাই

মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশ ফুটবল দল এক বিশাল গোল উৎসবের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ম্যাচের শুরুটা দারুণ আশাজাগানিয়া ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী ছিল। খেলা শুরুর মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী চমৎকার একটি ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেন। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে উমেহ্লা মারমা দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন।

প্রাথমিক এই সাফল্যের পর ধারণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ হয়তো আরও বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতবে। তবে মাঠের চিত্র উল্টো রূপ নেয়। রক্ষণভাগের অসতর্কতা এবং নিজেদের মাঠের ভুলে বাংলাদেশ পর পর দুটি গোল হজম করে বসে। মালদ্বীপ ২-২ গোলে সমতায় ফিরলে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দলের এমন চরম দুঃসময়ে এবং চাপের মুখে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। মাঠে নেমেই তিনি দুর্দান্ত একটি গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। এরপর খেলার একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) কোহাতি কিসকু আরেকটি গোল করলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

কোচের মূল্যায়ন এবং ভুল শোধরানোর পরিকল্পনা

ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ৩ পয়েন্ট অর্জন এবং এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় প্রধান কোচ পিটার বাটলার দলের ওপর খুশি হয়েছেন বলে প্রীতি জানিয়েছেন। মালদ্বীপের ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে দীর্ঘ কোনো আলোচনা না হলেও কোচ তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের প্রশংসা করেছেন। কোচের প্রথম এবং প্রধান শর্ত ছিল ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলে নেওয়া, যা দলের মেয়েরা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

তবে ম্যাচ চলাকালীন দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে সমস্ত ভুল-ত্রুটি ও দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোচ কাজ শুরু করবেন। ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্ধারিত অনুশীলনে (ট্রেনিং সেশন) কোচ পিটার বাটলার ভিডিও বিশ্লেষণ ও মাঠের অনুশীলনের মাধ্যমে সেসব ত্রুটি খেলোয়াড়দের ধরিয়ে দেবেন। বাংলাদেশ দল এখন ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেদের সব ভুল শুধরে নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও শক্তিশালী কৌশল অবলম্বন করার জন্য জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যেই রবিবার ভারতের মুখোমুখি হবে সুরভী-কোহাতিরা।