এক ট্রেনের জন্য চার ঘণ্টা স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের উদ্দেশ্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার সমাপনী দিনে ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সময়সূচি সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় কয়েক শ যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ট্রেনের দেখা না মেলায় শেষ দিনে সঠিক সময়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশনের সার্বিক পরিস্থিতি ও যাত্রীদের ভোগান্তি

আজ বুধবার সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুর সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, শত শত যাত্রী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে অনেক যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মের মেঝেতেই ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নীলফামারী জেলার ডোমারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর চারটার দিকেই কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত হন। সড়কপথের তীব্র যানজট এড়াতে এবং ট্রেনে স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের আশায় তিনি এই মাধ্যম বেছে নিয়েছিলেন। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করার পরও গন্তব্যের ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ভোর চারটায় আসা আরেক যাত্রী লিমা আক্তার তাঁর স্বামী মুমিনুর রহমান, মা সালমা আক্তার এবং ছোট ভাই সিয়ামকে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার জন্য নীলসাগর এক্সপ্রেসের অপেক্ষা করছেন। কোলের শিশুকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করায় তাঁদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

একতা এক্সপ্রেসের সময়সূচি পরিবর্তন

নীলসাগর এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় অভিমুখে চলাচলকারী ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্টেশনের ডিজিটাল তথ্যপ্রদর্শনী বোর্ডের বিবরণ অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এর সম্ভাব্য প্রস্থান সময় পিছিয়ে বেলা ১১টা উল্লেখ করা হয়।

রেলওয়ে প্রশাসনের বক্তব্য ও বিলম্বের কারণ

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কবীর উদ্দীন ট্রেনের এই বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, গতকালই নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি করেছিল। উপরন্তু, ঈদের সময়ে ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতি অক্ষুণ্ন রেখে চালানো সম্ভব হয়নি। ফিরতি যাত্রায় এই ধীরগতির কারণে আজকে ট্রেনটির প্রস্থান সময়ে বিলম্বের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একতা এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে বিলম্বের সময়কাল ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের বেশি হবে না বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

নিচে আজ বুধবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে বিলম্বিত হওয়া ট্রেন দুটির বর্তমান পরিস্থিতি একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

ট্রেনের নামগন্তব্যস্থলনির্ধারিত প্রস্থান সময়পরিবর্তিত সম্ভাব্য সময়বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ
নীলসাগর এক্সপ্রেসচিলাহাটিসকাল ০৬:৪৫ মিনিটচার ঘণ্টার অধিক বিলম্বপূর্ববর্তী দিনের বিলম্ব এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গতি হ্রাস।
একতা এক্সপ্রেসপঞ্চগড়সকাল ১০:১৫ মিনিটবেলা ১১:০০ মিনিটপরিচালনগত কারণে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট বিলম্ব।

ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে এসে ট্রেনের এমন সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার এই যাত্রীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি ঈদ উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ব্যাহত করেছে।