ইরাকের এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় গত রবিবার (২৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও নিহতের পরিচয়
নিহত দুই প্রবাসী হলেন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের খলিল মণ্ডলের পুত্র মনোহার আলী (৩৫) এবং চর পাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের পুত্র বজলু (৪০)। তারা উভয়েই ইরাকের একটি স্থানীয় কনফেকশনারি দোকানে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় তাদের বহনকারী যানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতদের ব্যক্তিগত তথ্যের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| তথ্যের ধরণ | বিবরণ (ব্যক্তি-১) | বিবরণ (ব্যক্তি-২) |
| নাম | মনোহার আলী | বজলু |
| পিতার নাম | খলিল মণ্ডল | মৃত আলাউদ্দিন মাস্টার |
| বয়স | ৩৫ বছর | ৪০ বছর |
| গ্রাম | ঘুঘুমারী | কোয়ালিকান্দি |
| ইউনিয়ন | কড়ইচড়া | চর পাকেরদহ |
| পেশা | কনফেকশনারি কর্মী | কনফেকশনারি কর্মী |
| উপজেলা/জেলা | মাদারগঞ্জ, জামালপুর | মাদারগঞ্জ, জামালপুর |
প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক পরিস্থিতি
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোহার আলী অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আশায় প্রায় চার বছর আগে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে তিনি পরিবারের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে বজলুও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। হঠাৎ এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার দুটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাদারগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে:
নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারগুলোকে ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মরদেহ দেশে আনয়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া
সাধারণত প্রবাসী কোনো কর্মী বিদেশে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে। যেহেতু ইরাকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র প্রয়োজন হবে:
১. নিয়োগদাতার প্রত্যয়নপত্র।
২. স্থানীয় পুলিশের ছাড়পত্র।
৩. মৃত্যু সনদ (ডেথ সার্টিফিকেট)।
৪. দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র।
মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদের পরিবারকে দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং পরবর্তীতে বড় অংকের বিমা বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান রয়েছে, যদি তারা বৈধ পথে বিদেশে গিয়ে থাকেন। মাদারগঞ্জের দুই পরিবার এখন সেই আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এই প্রক্রিয়া তদারকি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
